গঠনতন্ত্র

প্রস্তাবনা

শত বছর পূর্ব থেকেই সাপ্তাহিক পত্রিকা সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে ।পাশাপাশি যুগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকতা ইদানীং এক চ্যালেঞ্জিং পেশায় পরিণত হয়েছে। এডিটরদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জে সাফল্য অর্জন সম্ভব। সে সব লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে একটি সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল দীর্ঘদিন থেকে। সে লক্ষ্যে 03মে 2026 তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্তরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাপ্তাহিক এডিটরদের এক সভায় বাংলাদেশ সাপ্তাহিক সম্পাদক ফোরাম (Bangladesh weekly Editors forum) সংক্ষেপে BWEF আত্মপ্রকাশ হয়।

১. পরিচয়
এই সংগঠনের নাম Bangladesh weekly Editors forum,বাংলায়- বাংলাদেশ সাপ্তাহিক সম্পাদক ফোরাম। সংক্ষেপে BWEF হিসেবে পরিচিত হইবে। দেশের সকল নিবন্ধিত সাপ্তাহিকের সম্পাদক নিয়ে এ সংগঠন গঠিত। এই সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় থাকবে ঢাকা।

২. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ক. এডিটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রতিভা বিকাশ, পেশাগত মান উন্নয়ন, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ রক্ষা।
খ. বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকাশ।
গ. সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণে কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ।
ঘ. পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক মান উন্নয়ন।

৩. সদস্য
এই সংগঠনে দুই ধরনের সদস্য পদ থাকবে। সাধারণ ও সহযোগী সদস্য।
ক. সাধারণ সদস্য :
দেশের সকল নিবন্ধিত সাপ্তাহিকের সম্পাদক/উপ-সম্পাদকগণ এ সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।
খ. সদস্যরা তার সদস্যপদ প্রাপ্তির এক বছর পূর্ণ হলে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সদস্যপদ পেতে আগ্রহীরা নির্ধারিত ফরম পূরণ ও ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও পত্রিকা প্রকাশের বি ফরম,জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
গ. সহযোগী সদস্য : পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকার সম্পাদকগণ,সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ সহযোগী সদস্য হতে পারবেন। সহযোগী সদস্যগণের ভোটাধিকার থাকিবে না/নির্বাচন করিতে পারিবে না।
ঙ. ১. বাছাই কমিটি বছরে অন্তত একবার বৈঠকে বসে সদস্যপদের আবেদনপত্র বাছাই করবে।
২. খসড়া তালিকা প্রণয়নের দু’দিনের মধ্যে বাছাই কমিটি তা সাধারণ সদস্যদের অবগতি, আপত্তি ও মতামত গ্রহণের জন্য সুবিধাজনক প্রকাশ্য স্থানে ৭ দিনের জন্য টানিয়ে রাখবে। এ সম্পর্কে কোন আপত্তি বা মতামত পাওয়া গেলে তা পর্যালোচনা করে মন্তব্যসহ বাছাই কমিটির খসড়া তালিকাটি নির্বাহী কমিটির কাছে প্রেরিত হবে। নির্বাহী কমিটির পরবর্তী সভায় তা উত্থাপন করা হবে। নির্বাহী কমিটি সদস্যপদ চূড়ান্ত করবে।

৪. সদস্যপদ পরিবর্তন/বাতিল/স্থগিত

ক. কোন সদস্য এক বছর চাঁদা বকেয়া রাখলে তার সদস্যপদ স্থগিত থাকবে। তিনি বকেয়া পরিশোধ করলে সদস্যপদ পুনর্বহাল হবে। কোন সদস্য তিন বছর চাঁদা পরিশোধ না করলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে।
খ. গঠনতন্ত্রের বিধান মতে কোন সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলযোগ্য কি-না, তা বাছাই কমিটি পরীক্ষা করে কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে রিপোর্ট করবে। কার্যনির্বাহী কমিটি এই রিপোর্ট পর্যালোচনা ও তদন্ত করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
গ. কোন সদস্যের বিরুদ্ধে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য লঙ্ঘন ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কোন অভিযোগ এলে সে বিষয়ে তদন্তের জন্য কার্যনির্বাহী কমিটি অনধিক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। তদন্ত কমিটি অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেবে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে কার্যনির্বাহী কমিটি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে সভায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য পেশের সুযোগ দেবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও সদস্যের বক্তব্যের ভিত্তিতে নির্বাহী কমিটি সংশ্লিষ্ট সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করতে অথবা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে।

৫. চাঁদা ও তহবিল
ক. সদস্য চাঁদা, শুভানুধ্যায়ীদের অনুদান ও এককালীন সাহায্য এবং সাময়িকী প্রকাশের মাধ্যমে সংগঠনের তহবিল গঠিত হবে। তহবিল ব্যাংকে রক্ষিত থাকবে। মহাসচিবের তত্ত্বাবধানে সংগঠনের জরুরি ব্যয় নির্বাহের জন্যে অফিসে নগদ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত রাখা যাবে।
খ. সদস্যপদের জন্য চাঁদা হবে মাসিক 100(এক শত) টাকা ।
গ. সংগঠনের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে যা অর্থ সচিব, সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদকের যে কোন দুইজনের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে।
ঘ. সংগঠনের অর্থনৈতিক সকল কর্মকান্ড ও আয়-ব্যয়ের হিসাব থাকবে। সাধারণ সভায় অর্থ সচিব হিসাবের অডিট রিপোর্ট পেশ করবেন। তবে কার্যনির্বাহী কমিটির প্রত্যেকটি সভায় পূর্ববর্তী সময়ের আয়-ব্যয় সম্পর্কে কমিটির সদস্যদের অবহিত করতে হবে।

৬. সাংগঠনিক কাঠামো
ক. সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য 15 সদস্যের একটি কার্যনির্বাহী কমিটি থাকবে। কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর যা নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে গণনা করা হবে।
খ. কার্যনির্বাহী কমিটিতে একজন সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি, একজন মহাসচিব, একজন যুগ্ম- মহাসচিব, একজন অর্থসচিব, এবং 10জন কার্যনির্বাহী সদস্য থাকবেন।
গ. পদত্যাগ বা অন্য কোন কারণে সভাপতির পদ শূন্য হলে সহ-সভাপতি এবং মহাসচিব পদ শূন্য হলে যুগ্ম- মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন। অনুরূপভাবে সহ-সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব কোন পদ শূন্য হলে কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্য হতে সেই পদ পূরণ করা হবে। কোন পদ শূন্য হওয়ার 30 দিনের মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে ঐ পদ পূরণ করতে হবে।
ঘ. যদি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসংখ্যা কোন কারণে 15-এর কম হয়ে পড়ে তবে কমিটি প্রয়োজনে সাধারণ সদস্যদের মধ্য থেকে অনধিক দু’জনকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবে। তবে মোট সদস্য সংখ্যা কিছুতেই জোড়সংখ্যক হতে পারবে না।

৭. কার্যনির্বাহী কমিটির কার্যক্রম
ক. কার্যনির্বাহী কমিটি প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার সভায় মিলিত হবে।
খ. সংগঠনের মহাসচিব সভাপতির সঙ্গে আলোচনাক্রমে অন্তত তিনদিনের নোটিশ কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করতে পারবেন। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে চব্বিশ ঘণ্টার নোটিশে জরুরি সভা আহ্বান করা যাবে। সভাপতি প্রতিটি সভায় নিয়মিত সভাপতিত্ব করবেন।
গ. সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করবেন। সভাপতি ও সহ-সভাপতি দু’জনই অনুপস্থিত থাকলে কার্যনির্বাহী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
ঙ. কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের সংগঠনের সকল ব্যয় নির্বাহ হবে। অর্থসচিব যাবতীয় ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবেন।
চ. কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের(5জন) উপস্থিতিকে সভার কোরাম হিসেবে গণ্য করা হবে।
ছ. কার্যনির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও কমিটিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন। অন্যথায় কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
জ. যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতাকে প্রাধান্য দেয়া হবে। মতপার্থক্য বজায় থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমতে এবং প্রয়োজনে সভাপতির নির্ধারণীমূলক একক ভোট যুক্ত করে কার্যনির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ঝ. সভাপতি ও মহাসচিবের পদ শূন্য হলে তাদের মেয়াদ যদি নির্ধারিত সময়ের অর্ধেকের বেশি বাকি থাকে সেক্ষেত্রে এসব পদে নতুন নির্বাচন হবে। অর্ধেকের কম মেয়াদ থাকলে যথাক্রমে সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক এসব শূন্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। সম্পাদকমন্ডলীর অন্য কোন পদ খালি হলে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে তা পূরণ করা হবে। আর নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ শূন্য হলে সেই পদে সদস্যদের মধ্য থেকে কো-অপ্ট করা হবে।
ঞ. প্রতি সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ থাকবে। মহাসচিবের তত্বাবধানে এসব কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করবেন। তিনটি সভায় নির্বাহী কমিটির কোন কর্মকর্তা বা সদস্য অনুপস্থিত থাকলে তার পদ বাতিল করা যেতে পারে। কারণ দর্শানোর পর নির্বাহী কমিটি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
ট. চাঁদা ও অনুদানের টাকা কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরে গৃহীত হবে এবং অর্থ সচিবের কাছে তা জমা দিতে হবে। অর্থ সচিব চাঁদা পরিশোধ করা সদস্যদের তালিকা সংরক্ষণ করবেন এবং নির্বাচনের অন্তত একমাস আগে সাধারণ সম্পাদকের কাছে এ তালিকা পেশ করবেন যা পরবর্তী সময়ে ভোট প্রদানের যোগ্য তালিকা তৈরিতে নির্বাহী কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।
ঠ. উপদেষ্টা পরিষদ গঠন : প্রবিণ সাংবাদিক,দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক,ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধী নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হবে।

৮. কার্যনির্বাহী কমিটির কার্যক্ষমতা
ক. সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। সভাপতি ও মহাসচিব সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন।
খ. উইকলী এডিটরস ফোরাম -এডিটরদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে।
গ. সংগঠন দলীয় রাজনৈতিক বিরোধ বা বিতর্কে যুক্ত হবে না।

৯. সাধারণ সভা
ক. প্রতি তিন বছর অন্তর সম্মেলন ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে সাধারণ সভা ছাড়াও মধ্যবর্তী সময়ে প্রয়োজনবোধে বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
খ. বার্ষিক ও বিশেষ সাধারণ সভার ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ পূর্বে সভা আহ্বানের নোটিশ দিতে হবে।
গ. মোট সাধারণ সদস্যের এক-পঞ্চমাংশ সদস্যের উপস্থিতি কোরাম হিসাবে গণ্য হবে। উপস্থিত সদস্যের অধিকাংশের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
ঘ. সাধারণ ভাবে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের কমপক্ষে দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। কার্যনির্বাহী কমিটি প্রথম বছরে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করবে। তবে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাষ্ট্রীয় বিধিনিশেধ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হলে কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে সাধারণ সভা ও নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা যাবে।
ঙ. কোন নির্দিষ্ট ও যথাযথ কারণ ছাড়াই যদি কার্যনির্বাহী কমিটি যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয়, তবে তিন বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দিন থেকেই কার্যনির্বাহী কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদ অনধিক দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

১০. অনাস্থা/তলবি সভা
ক. কার্যনির্বাহী কমিটির কোন কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে হলে বা তলবি সভা ডাকতে হলে এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের স্বাক্ষরে তলবি বা অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য সভা ডাকা যাবে।
খ. উভয় ক্ষেত্রে মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
গ. সভাপতি ও মহাসচিবের কাছে লিখিতভাবে অনাস্থা বা তলবি সভায় পেশ করতে হবে।
ঘ. সাতদিনের মধ্যে মহাসচিব, সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষভাবে ডাকতে হবে। এ সময়ের মধ্যে তারা সভা ডাকতে ব্যর্থ হলে তলবি বা অনাস্থা প্রস্তাবকারীরা নিজেরাই সভা ডাকবেন।
ঙ. কোন বিশেষ সাধারণ সভায় বা তলবি সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিটি বিলুপ্ত হবে। ঐ সভায়ই অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সর্বোচ্চ 07(সাত) সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে বাধ্য থাকবে।
চ. কার্যনির্বাহী কমিটি বা অন্য কোন কমিটির সভায় কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোটের প্রয়োজন হলে এবং তাতে সমান সংখ্যক ভোট পড়লে (উভয় পক্ষে) সভাপতি দ্বিতীয়বার আরেকটি ভোট প্রদান করবেন, যা নির্ণায়ক ভোট হিসেবে বিবেচিত হবে।

১১. নির্বাচন
ক. সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটে কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন হবে।
খ. কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন কোন প্যানেল বা পরিষদভুক্ত প্রতিদ্বন্দিতায় অনুষ্ঠিত হবে না।
গ. সংগঠনের যে কোন ভোটাধিকার প্রাপ্ত সদস্য এককভাবে যে কোন পদে প্রার্থী হতে পারবেন।
ঘ. কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য 3 সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে। কমিশনের একজন সদস্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংগঠনের সিনিয়র সদস্যদের মধ্যে থেকে অথবা আমন্ত্রণমূলক ব্যবস্থায় নির্বাচনের অন্তত এক’মাস আগে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।
ঙ. কোন সদস্যই পরপর দু’বারের বেশি কার্যনির্বাহী কমিটির একই কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। তবে কমিটির সদস্য হতে বাধা নেই।
চ. সদস্য প্রাপ্তির পর তিনমাস মেয়াদ অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কেউ সদস্য কিংবা কর্মকর্তা পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।
ছ. নির্বাচনের এক মাস আগে কার্যনির্বাহী কমিটি ভোটার তালিকা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ভোট প্রদানের যোগ্য সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রদান করবে। নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটের তালিকা প্রকাশ করবে। এই তালিকা প্রকাশের ৩ দিনের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকার ভুলভ্রান্তি সংশোধন সাপেক্ষে কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।
জ. নতুন সদস্য হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে ভোটাধিকার পাবেন না। পরবর্তী নির্বাচনে তিনি ভোটার হবেন।
ঝ. তিন বছর অন্তর সম্ভাব্য ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পর ১০ দিনের মধ্যে বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটি নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।
ঞ. নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তফসিলে চ‚ড়ান্ত তালিকা প্রকাশের তারিখ থেকে ভোট গ্রহণের তারিখের ব্যবধান ১০ (দশ) দিনের বেশি হবে না। মনোনয়নপত্র জমাদানের জন্য দুই দিন, মনোনয়নপত্র বাছাই-এর জন্য একদিন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য একদিন এবং ভোট গ্রহণের জন্য একদিন নির্দিষ্ট করতে হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তারিখের পরদিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
ট. প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে সংগঠনের দু’জন সদস্যের প্রস্তাবনা ও সমর্থন থাকতে হবে এবং কোন সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটির ৫টির বেশি সদস্যপদ এবং অন্য কোন কর্মকর্তার একই পদে একাধিক প্রার্থীর প্রস্তাবক অথবা সমর্থক হতে পারবেন না।
ঠ. নির্বাচনে কর্মকর্তা এবং কার্যনির্বাহী সদস্যদের জন্য দুই রংয়ের দুইটি ব্যালট থাকবে। তবে আধুনিক কোন পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
ড. নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালে প্রার্থীদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করবে। প্রার্থীরা এই আচরণবিধি মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে নির্বাচন কমিশিন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

১২. গঠনতন্ত্র সংশোধন
ক. প্রয়োজনে গঠনতন্ত্রের সংশোধনী আনা যাবে বা সংযোজন ও উপধারা অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। গঠনতন্ত্রের জন্য আনীয়ত প্রস্তাব নির্বাচনের পূর্বে সাধারণ সভার ১৫ (পনের) দিন আগে লিখিতভাবে কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে জমা দিতে হবে।
খ. কোরামপূর্ণ সাধারণ সভায় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংশোধনী পাস হবে।
গ. নির্বাচন কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত আহ্বায়ক কমিটির সকল কার্যক্রম যেমন নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়মসম্মত ও বৈধ বলে বিবেচিত হবে।
ঘ. যে বিষয় বা কার্যক্রম সম্পর্কে গঠনতন্ত্রে লিখিতভাবে উল্লেখ নেই, সে বিষয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।