“ঐক্য আমাদের শক্তি, সাপ্তাহিক আমাদের ভিত্তি”
প্রিয় সহকর্মী সম্পাদকবৃন্দ,
আমার সাংবাদিকতার পথচলা শুরু হয়েছিল খুব ছোট পরিসরে—মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন, একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে। তখনই উপলব্ধি করি, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়—এটি একটি দায়িত্ব, একটি অঙ্গীকার।
আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চু স্যারের অনুপ্রেরণা আমাকে এই পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। তাঁর সেই দিকনির্দেশনায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছি এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।
সাংবাদিকতার এই দীর্ঘ যাত্রায় এসে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা অনুধাবন করেছি—সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোই প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিক তৈরির সূতিকাগার। এখান থেকেই একজন নবীন লেখক ও সংবাদকর্মী ধীরে ধীরে পরিপক্ব হয়ে ওঠে। অথচ দুঃখজনকভাবে, এই সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।
রাষ্ট্রীয় সহায়তার অভাব, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নানাবিধ প্রতিকূলতার মাঝেও এসব পত্রিকা টিকে আছে কেবল ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অক্লান্ত পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে। অনেকেই কিছুদিন চালিয়ে যেতে পারলেও, শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে অসংখ্য সম্ভাবনাময় উদ্যোগ মাঝপথেই থেমে যায়—যা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য এক বড় ক্ষতি।
আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—আমরা ঐক্যবদ্ধ নই। আমরা বিচ্ছিন্ন। ফলে আমাদের কণ্ঠ যথাযথভাবে সরকারের দোরগোড়ায় পৌঁছায় না, আমাদের দাবিগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে না।
এই বাস্তবতা পরিবর্তনের দৃঢ় সংকল্প থেকেই আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি—একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে দেশের সকল সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকরা একসাথে কাজ করবেন। সেই স্বপ্নের নাম—বাংলাদেশ উইকলি এডিটরস ফোরাম।
আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, তাহলে আমাদের কণ্ঠ আর উপেক্ষিত থাকবে না। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারব এবং আমাদের পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।
আসুন, আমরা সবাই মিলে এই ফোরামকে শক্তিশালী করি—ঐক্যের শক্তিতে, সাহসের দৃঢ়তায় এবং সত্যের পথে অবিচল থেকে।
মুহা. শরীফ খান
প্রধান উদ্যোক্তা

